ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও খরচ

ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম: প্রত্যেক ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তাদের প্রথম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি প্রমানপত্র হলো ট্রেড লাইসেন্স। ব্যবসায়ীরা ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থানে ব্যবসা পরিচালনা করার স্বাধীনতা রাখে। আপনি যদি একজন নতুন ব্যবসী হতে চান তাহলে আপনাকে প্রথমে ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে।

কারণ ট্রেড লাইসেন্স এর মাধ্যমে আপনি একজন পরিপূর্ণ ব্যবসায়ী হওয়ার পাশাপাশি ব্যাংক থেকে ব্যবসার জন্য ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। তাছাড়া ব্যবসায়ের পরিব্যপ্তি বৃদ্ধির নেপথ্য মোক্ষম বাহক হিসেবে কাজ করে এই ট্রেড লাইসেন্স।

আজকের আর্টিকেলে আমরা জানবো ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম, কোথায় থেকে করবেন, কত টাকা লাগবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

ট্রেড লাইসেন্স কোথায় থেকে করবেন

ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য আবেদনকারীকে প্রথমে ঠিক করতে হবে তিনি ব্যবসাটি কোন স্থানীয় সরকারের অধীনে পরিচালনা করবেন। এখানে স্থানীয় সরকার বলতে বুঝানো হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা বা জেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং সিটি করপোরেশন এলাকাকে বুঝানো হয়েছে।

এই স্থানীয় সরকারের নিমিত্তে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে সারা বাংলাদেশ ব্যাপী ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। কিন্তু ব্যবসা প্রসারের স্বার্থে অন্যান্য স্থানীয় সরকারের অধীনে ব্যবসার অফিস পরিচালনা করতে হলে সেখানকার স্থানীয় সরকারের পৃথক ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে।

ঢাকা শহরে উত্তর ও দক্ষিণ দুইটা সিটি করপোরেশন রয়েছে এবং দুই সিটি করপোরেশনের ১০টি করে অঞ্চল ভাগ করা রয়েছে। আপনি যে অঞ্চলে ব্যবসা করতে চান উক্ত অঞ্চলের অফিস থেকে ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফর্ম সংগ্রহ করবেন এবং সেখান থেকে আপনাকে ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হবে।

ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য কি কি কাগজপত্র লাগবে সেটা নির্ভর করবে আপনার ব্যবসার উপর ভিত্তি করে। যেমন স্বত্বাধিকারী ব্যবসা, অংশীদারী ব্যবসা ও কোম্পানি ব্যবসা এই ভিন্ন তিনটি ব্যবসার জন্য ভিন্ন ভিন্ন কাগজপত্র প্রয়োজন হবে।

স্বত্বাধিকারীরা ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • স্বত্বাধিকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দোকান বা অফিস ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিজের জায়গায় হলে বিদ্যুৎ বিলের ফটোকপি।
  • হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের ফটোকপি।

অংশীদারী ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • ম্যানেজিং পার্টনারের জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • ম্যানেজিং পার্টনারদের ৩ কপি করে পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • ৩০০ টাকার দলিলে অংশীদারী ব্যবসার চুক্তিপত্র।
  • অফিস বা দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জায়গা অংশীদারীর কারোর নামে হলে হেল্ডিং ট্যাক্স ও বিদুৎ বিলের ফটোকপি।

কোম্পানি ব্যবসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • ম্যানেজিং পার্টনারের জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • ম্যানেজিং পার্টনারদের ৩ কপি করে পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি।
  • কোম্পানির সার্টিফিকেট অফ ইন-কর্পোরেশন।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জায়গা অংশীদারীর কারোর নামে হলে হেল্ডিং ট্যাক্স ও বিদুৎ বিলের ফটোকপি।
  • কোম্পানির মেমরেন্ডাম ও আর্টিকেল অফ এসোসিয়েশন।
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জায়গা অংশীদারীর কারোর নামে হলে হেল্ডিং ট্যাক্স ও বিদুৎ বিলের ফটোকপি।

ট্রেড লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে

ট্রেড লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগবে এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে ব্যবসার ধরন ও অঞ্চলের উপর ভিত্তি করে। ঢাকা উত্তর দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে সর্বনিন্ম ১ হাজার টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে।

সিটি করপোরেশন আদর্শ কর তফসিল, ২০১৬ এর বিধিমালা অনুযায়ী ট্রেড লাইসেন্স এর খরচ সমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্স ফি তালিকা জানুন।

আবার ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভার থেকে ট্রেড লাইসেন্স করতে সর্বনিন্ম ২০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পর্যন্ত লাগে। 

এক নামে একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স করতে আরে বেশি টাকা লাগে। কোম্পানির ক্ষেত্রে সব ধরনের ব্যবসা একটি ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে অল্প খরচে করতে পারবেন।

ট্রেড লাইসেন্স খরচের সাথে আকৃতি অনুসারে সাইনবোর্ড ফি, লাইসেন্স বই খরচ সহ অন্যান্য খরচের উপর ১৫% ভ্যাট খরচ যুক্ত করা রয়েছে।

ট্রেড লাইসেন্স করতে কতদিন সময় লাগে

ট্রেড লাইসেন্স আবেদন সম্পূর্ণ করার পরে সর্বোচ্চ ৭ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। ৭ দিনের মধ্যে আপনি ট্রেড লাইসেন্স হাতে পেয়ে যাবে। ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতেও সর্বোচ্চ ৭ দিন সময় লাগে।

ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম

ট্রেড লাইসেন্স করার জন্য নিচের ধাপ গুলো অনুসারণ করুনঃ

ধাপ ১: আপনার ব্যবসায়িক অঞ্চল নির্ধারণ করে স্থানীয় সরকার অফিস যেমন ইউনিয়ন পরিষদ / পৌরসভা / সিটি করপোরেশন অফিসে যান।

ধাপ ২: ট্রেড লাইসেন্স আবেদন করার জন্য আই ফর্ম ও কে ফর্ম দুইটি ভিন্ন ফরম রয়েছে, ছোট ব্যবসার জন্য আই ফর্ম এবং বড় ব্যবসার জন্য কে ফর্ম সংগ্রহ করুন। ১০ টাকার বিনিময়ে ফর্ম সংগ্রহ করুন।

ধাপ ৩: ট্রেড লাইসেন্সের ফরম সঠিক ভাবে পূরণ করে নিদিষ্ট ব্যাংকে ভ্যাটসহ টাকা জমা দিয়ে রশিদ সংগ্রহ করুন।

ধাপ ৪: ব্যবসার ধরণ অনুযায়ী আবেদন ফরমের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং ব্যাংক জমা রশিদ যুক্ত করে স্থানীয় সরকারের অফিসে জমা দিবেন।

ধাপ ৫: স্থানীয় সরকার অফিস থেকে দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত একজন কর্মকর্তা আপনার ব্যবসায়িক কেন্দ্রটি পরিদর্শন করে অফিসে রিপোর্ট প্রদান করবেন।

ধাপ ৬: ট্রেড লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  এবং দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার রিপোর্ট সঠিক থাকলে ৭ দিনের মধ্যে আপনি ট্রেড লাইসেন্স হাতে পেয়ে যাবেন।

শেষ কথা

আজকে আমরা জানলাম ট্রেড লাইসেন্স করার নিয়ম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও খরচ এবং কত দিন সময় লাগবে। এই সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন জানার থাকলে নিচের কমেন্ট বক্সে লিখে জানাবেন।

FAQ (প্রশ্ন উত্তর)

ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফরম কোথায় পাবো?

আপনার ব্যবসায়িক অঞ্চলে স্থানীয় সরকারের অফিস যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন অফিসে ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফরম পেয়ে যাবেন।

ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ কত দিন?

ট্রেড লাইসেন্স এর মেয়াদ ১ বছর। ১ বছর পরে আপনাকে আবার ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে।

ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি কত টাকা?

ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং নতুন ট্রেড লাইসেন্স ফি একই।

ট্রেড লাইসেন্স সম্পর্কে আরো তথ্য পড়ুন

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *