বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার নিয়ম

সহজে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার নিয়ম। ঢাকায় কনস্যুলেট অফিস খুলে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগালগামীদের ভিসা দিবে লিসবন, পর্তুগাল। এতে ভিসা প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার জন্য আবেদন করা যায় না। কারণ বাংলাদেশে পর্তুগালের কোনো এম্বাসি বা দূতাবাস নেয়। এজন্য ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত পর্তুগাল এম্বাসি থেকে ভিসার আবেদন করতে হয়।

এদেশ থেকে দিল্লিতে গিয়ে পর্তুগাল ভিসার করতে অনেক টাকা, শ্রম ও সময় ব্যয় করতে হয়। তারপর ও আপনার ভিসা হবে কিনা সেটা অনিশ্চিত।

বর্তমানে পর্তুগালে ১০ হাজার বাংলাদেশী বসবাস করছেন এবং ধীরে ধীরে বাংলাদেশীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এদের মধ্যে অনেকে নানা ধরনের সমস্যায় আছেন। তাদের সমস্যা সমাধান করার জন্য কাজ করছে সরকার।

বর্তমান সময় বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যেতে ৪টি ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এই ভিসা ক্যাটাগরি গুলো হলো ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা ও মেডিকেল ভিসা।

#পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা

আপনারা যারা ওয়ার্ক পারমিট ভিসা বা কাজের ভিসার নিয়ে পর্তুগাল যেতে চান তারা কনস্যুলেট বা পর্তুগাল দূতাবাসে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করুন।

আপনার আবেদন যদি এপ্রুভ হয় তাহলে কোম্পানি থেকে কাজের জন্য আপনার কাজে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাঠাবে। তখন আপনি সহজে পর্তুগাল যেতে পারবেন।

#পর্তুগাল স্টুডেন্ট ভিসা

বাংলাদেশ থেকে প্রত্যেক বছর হাজার হাজার স্টুডেন্ট উন্নত শিক্ষার জন্য বিদেশ যাচ্ছেন। আপনিও যদি পড়াশোনা করার জন্য পর্তুগাল যেতে চান তাহলে পর্তুগালের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার জন্য আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার স্টুডেন্ট ভিসায় যোগ্যতা থাকতে হবে।

আপনি যদি উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ পান তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে আপনাকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার পাঠাবে। তখন আপনি স্টুডেন্ট ভিসায় পর্তুগাল যেতে পারবেন।

#পর্তুগাল টুরিস্ট ভিসা

পর্তুগাল টুরিস্ট ভিসায় মাধ্যমে আপনারা খুব সহজে পর্তুগাল যেতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে কমপক্ষে ৫টি দেশ ভ্রমণ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। ৫টি দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা না থাকলে টুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে পারবেন না।

আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল ভ্রমণেন জন্য টুরিস্ট ভিসায় আবেদন করেন তাহলে খুব সহজে ভিসা পেয়ে যাবেন। কারণ পর্তুগাল টুরিস্ট ভিসা পাওয়া অন্যান্য ভিসার তুলনায় অনেক সহজ।

#পর্তুগাল মেডিকেল ভিসা

পর্তুগাল চিকিৎসার জন্য উন্নত একটি দেশ। বাংলাদেশ থেকে প্রচুর সংখ্যাক মানুষ প্রতি বছর উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রত্যেক বছর পর্তুগাল যাচ্ছেন।

আপনারা যারা চিকিৎসার জন্য পর্তুগাল যেতে চাচ্ছেন তারা মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদন করুন। বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল মেডিকেল ভিসা ও টুরিস্ট ভিসা খুব সহজে পাওয়া যায়।

পর্তুগাল যেতে কি কি কাগজপত্র লাগে

  • বৈধ পাসপোর্ট এবং মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে।
  • সদ্য তোলা রঙিন ছবি।
  • পর্তুগাল অনলাইন আবেদন কপি।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র।
  • পূর্বে ৫টি দেশ ভ্রমণের ডকুমেন্টস (টুরিস্ট ভিসার ক্ষেত্রে)।
  • ব্যাংক স্টেটমেন্ট কপি।
  • কাজের দক্ষতার সার্টিফিকেট (ওয়ার্ক পারমিট ভিসার জন্য)।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট।
  • করোনা ভাইরাসের টিকা কার্ড।
  • IELTS পরিক্ষার স্কোর কমপক্ষে ৬ পেতে হবে (স্টুডেন্ট ভিসার জন্য)।

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার নিয়ম

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার জন্য আপনারা ৪টি ক্যাটাগরি ভিসার আবেদন করতে পারবেন। এই ভিসা গুলো হলো ওয়ার্ক পারমিট ভিসা, টুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং মেডিকেল ভিসা।

বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যেতে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন বেশি করা হয়। তবে বাংলাদেশীদের জন্য পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা ও স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়া অনেক কঠিন।

আবার টুরিস্ট ভিসা এবং মেডিকেল ভিসা পাওয়া অনেক সহজ। আপনারা যারা বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যেতে চাচ্ছেন তারা কয়েকটি মাধ্যমে যেতে পারবেন।

কোনো ভিসা এজেন্সির মাধ্যমে যোগাযোগ করে বা পর্তুগাল এম্বাসির মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করে অথবা আপনার কোনো পরিচিত আত্মীয় স্বজনরা যদি পর্তুগাল থাকে তাহলে তার সাথে যোগাযোগ করে পর্তুগাল যেতে পারবেন।

বাংলাদেশে পর্তুগালের এম্বাসি বা দূতাবাস নেই। তাই এম্বাসির মাধ্যমে পর্তুগাল ভিসা আবেদন করতে হবে ভারতের দিল্লিতে অবস্থিত পর্তুগাল এম্বাসিতে গিয়ে ভিসার আবেদন করতে হবে।

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যেতে কত টাকা লাগে

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যেতে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা লাগে। তবে এটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনি কোন ক্যাটাগরির ভিসায় পর্তুগাল যেতে চাচ্ছেন? 

একেক ক্যাটাগরির ভিসার দাম একেক রকম। যেমন পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় যেতে ৮ থেকে ১০ লক্ষ টাকা, টুরিস্ট ভিসায় যেতে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা, স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা এবং মেডিকেল ভিসায় যেতে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা লাগে।

পর্তুগাল ভিসা অনলাইনে আবেদন করুন

পর্তুগাল ভিসা অনলাইনে আবেদন করার জন্য উপরে উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ডকুমেন্টস গুলো রেডি করে schengenvisainfo.com/portugal/visa এই ওয়েবসাইটে গিয়ে ভিসা ক্যাটাগরি থেকে বিভিন্ন ভিসার আবেদন করতে পারবেন।

পর্তুগাল ওয়ার্ক পারমিট ভিসা পাওয়া ক্ষেত্রে আপনার কাজের দক্ষতা ও ভাষায় উপর বেশি প্রধান্য দেওয়া হয়।

পর্তুগাল বেতন কত

পর্তুগাল একজন শ্রমিকের সর্বনিম্ন মাসিক বেতন ৭০৫ ইউরো (বাংলাদেশী টাকায় ৭০ হাজার টাকার বেশি)। ২০২৬ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে শ্রমিকদের বেতন ৯০০ ইউরো (বাংলাদেশী টাকা ৯০ হাজার) করা হবে বলে জানিয়েছে পর্তুগাল সরকার।

তবে পর্তুগাল কাজের বেতন কত টাকা সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে আপনার কাজ এবং দক্ষতার উপর। ইউরোপের দেশ গুলো সব সময় শ্রমিদের কাজের মূল্যয়ন করে।

শেষ কথা

আজকে আমরা জানলাম সহজে বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার নিয়ম। এই সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে লিখে জানাবেন এবং ভালো লাগলে শেয়ার করবেন।

FAQ

পর্তুগাল যাওয়ার সহজ উপায়?

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল যাওয়ার সহজ উপায় হলো আপনার যদি কোনো আত্মীয়-স্বজন পর্তুগাল থাকে তাহলে তার মাধ্যমে সহজে পর্তুগাল যেতে পারবেন।

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল কত কিলোমিটার?

বাংলাদেশ থেকে পর্তুগাল ৯,০৪৭ কিলোমিটার।

বাংলাদেশে কি পর্তুগাল এম্বাসি আছে?

বাংলাদেশে পর্তুগালের এম্বাসি নেই। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পর্তুগাল এম্বাসি বা দূতাবাস বাংলাদেশে চালু হবে।

বাংলাদেশে পর্তুগাল এম্বাসি কবে আসবে?

২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে পর্তুগাল এম্বাসি বা দূতাবাস চালু হবার কথা আছে।

আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পড়ুন

Similar Posts

2 Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *