সৌদি আরব থেকে ইতালি যাওয়ার উপায়
১. টুরিস্ট বা ভিজিট ভিসার ( Short- Stay Schengen Visa)
আপনি যদি সৌদি আরব থেকে ঘুরতে বা কোনো আত্মীয়র কাছে যেতে চান, তবে আপনাকে শেনজেন( Schengen) ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। এই ভিসার মাধ্যমে আপনি ইতালিসহ ইউরোপের আরও ২৭ টি দেশে ভ্রমণ করতে পারবেন।
আবেদনের যোগ্যতা: আপনার সৌদি ইকামার মেয়াদ অন্তত ৩ থেকে ৬ মাস থাকতে হবে। পাসপোর্টের মেয়াদও ন্যূনতম ৬ মাস থাকা বাধ্যতামূলক।
আর্থিক স্বচ্ছলতা: আপনার সৌদি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে গত ৩ থেকে ৬ মাসের একটি ভালো লেনদেন দেখাতে হবে। ব্যালেন্স এমন থাকতে হবে যা দিয়ে আপনি ইতালিতে থাকার খরচ বহন করতে পারেন।
কোম্পানির এনওসি (NOC): আপনার কফিল বা কোম্পানি থেকে একটি প্রত্যয়ন পত্র নিতে হবে, যেখানে আপনার পদবী, যোগদানের তারিখ, বেতন এবং আপনি যে ছুটিতে ইতালি যাচ্ছেন তার অনুমতি থাকতে হবে। এই কাগজটি অবশ্যই চেম্বার অফ কমার্স (Chamber of Commerce) থেকে সত্যায়িত হতে হবে।
আবেদন কেন্দ্র: সৌদি আরবের রিয়াদ, জেদ্দা বা খোবার-এ অবস্থিত VFS Global সেন্টারের মাধ্যমে আপনাকে আঙুলের ছাপ (Biometric) এবং ফাইল জমা দিতে হবে।
২. ইতালির ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসা ( Decreto Flussi)
সৌদি আরবে যারা কঠোর পরিশ্রম করছেন, তাদের অনেকেরই স্বপ্ন থাকে ইতালিতে কাজের ভিসায় আসার। ইতালি সরকার প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট কোটায় বিদেশি শ্রমিক নেয়, যাকে “দেক্রেতো ফ্লুসি” বলা হয়।
নুলা ওস্তা (Nulla Osta): এটি মূলত একটি ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট। ইতালির কোনো মালিক যদি আপনাকে কাজ দিতে চায়, তবে সে সেখানকার ইমিগ্রেশন অফিসে আপনার হয়ে আবেদন করবে। তারা অনুমতি দিলে আপনি একটি ‘নুলা ওস্তা’ পাবেন।
ভিসা স্ট্যাম্পিং: সেই নুলা ওস্তা হাতে পাওয়ার পর আপনাকে সৌদি আরবে অবস্থিত ইতালিয়ান দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।
কাজের সুযোগ: বর্তমানে ইতালিতে ড্রাইভার, কনস্ট্রাকশন শ্রমিক, হোটেল বয় এবং কৃষি কাজে প্রচুর লোক নেওয়া হচ্ছে। তবে মনে রাখবেন, সরাসরি ইতালির কোনো বিশ্বস্ত মালিক বা আত্মীয়র মাধ্যমে এই প্রক্রিয়ায় এগোনো সবচেয়ে নিরাপদ।
৩. স্টুডেন্ট ভিসা বা পড়াশোনার মাধ্যমে ইতালি গমন
সৌদি আরবে যারা উচ্চ মাধ্যমিক বা স্নাতক শেষ করেছেন, তারা স্টুডেন্ট ভিসায় ইতালি যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। এটি ইউরোপে সেটেল হওয়ার অন্যতম সহজ পথ।
ইউনিভার্সিটি অ্যাডমিশন: প্রথমে ইতালির কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে হয়। অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি মাধ্যমেই পড়াশোনা করা যায়।
স্কলারশিপ: ইতালিতে পড়াশোনা অনেকটা ফ্রি বললেই চলে। ‘Regional Scholarship’ বা ডিএসইউ (DSU) স্কলারশিপের মাধ্যমে আপনি থাকা এবং খাওয়ার খরচও পেতে পারেন।
পার্ট-টাইম জব: স্টুডেন্ট ভিসায় আপনি সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ করার আইনি অনুমতি পাবেন, যা দিয়ে নিজের হাতখরচ চালানো সম্ভব।
৪. সৌদি আরব থেকে আবেদনের বিশেষ সুবিধাসমূহ
বাংলাদেশ বা ভারত থেকে আবেদন করার চেয়ে সৌদি আরব থেকে ইতালির ভিসা পাওয়া কিছুটা সহজ হতে পারে, যদি আপনার কাছে নিচের বিষয়গুলো ঠিক থাকে:
বৈধ রেসিডেন্সি: আপনার কাছে একটি বৈধ ‘ইকামা’ আছে যা আপনার পরিচয় নিশ্চিত করে।
আর্থিক প্রমাণ: সৌদি আরবে আপনার নিয়মিত বেতন আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্টে প্রতিফলিত হয়, যা দূতাবাসের কাছে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য।
সহজ যাতায়াত: সৌদি আরবের বড় শহরগুলো থেকে ইতালির রোম বা মিলানে সরাসরি ফ্লাইট রয়েছে, যা আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনাকে সহজ করে তোলে।
প্রয়োজনীয় কিছু সতর্কতা:
দালাল থেকে সাবধান: অনেকেই কাজের ভিসার নাম করে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নেয়। সব সময় চেষ্টা করবেন বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে বা ইতালিতে থাকা জানাশোনা মানুষের মাধ্যমে কাজ করতে।
কাগজপত্রের সত্যতা: ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা এনওসি (NOC) লেটারে কোনো ভুল তথ্য বা জাল সার্টিফিকেট দেবেন না। ইউরোপিয়ান দেশগুলো কাগজপত্রের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠোর।
