হেলিকপ্টার টিকেট (ভাড়া) করার নিয়ম
হেলিকপ্টারে ভ্রমন বা ব্যবহারের জন্য সাধারণত টিকেট কাটার পরিবর্তে হেলিকপ্টার ভাড়া ( Rent/ Charter) করার প্রক্রিয়া অনুসর ণ করতে হয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন বাণিজ্যিক হেলিকপ্টার পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা রয়েছে,যেমন- স্কয়ার এয়ার লিমিটেড, সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনস, ইমপ্রেস অ্যাভিয়েশন লিমিটেড, সিকদার গ্রপ, বাংলা ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি
১. প্রাথমিক পদক্ষেপ ও যোগাযোগ:
কোম্পানি নির্বাচন: প্রথমে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী পরিষেবা প্রদানকারী নির্ভরযোগ্য হেলিকপ্টার কোম্পানি নির্বাচন করতে হবে।
যোগাযোগ: নির্বাচিত কোম্পানির অফিসিয়াল ফোন নম্বর বা ইমেলের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন। অনেক কোম্পানির ওয়েবসাইটেও বুকিং ফরম পাওয়া যায়।
প্রয়োজনের তথ্য: যোগাযোগের সময় আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য, গন্তব্য, তারিখ, সময় এবং কতজন যাত্রী থাকবেন, তা জানাতে হবে। এছাড়াও অপেক্ষার সময় (যদি থাকে), কত সিটের হেলিকপ্টার প্রয়োজন ইত্যাদি বিষয়েও আলোচনা করুন।
২. ভাড়া ও খরচের হিসাব:
ভাড়া নির্ধারণ: হেলিকপ্টারের ভাড়া সাধারণত প্রতি ঘণ্টার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। হেলিকপ্টারের মডেল (যেমন: চার সিটের, ছয় সিটের বা ডাবল ইঞ্জিনের) এবং কোম্পানির নীতির ওপর ভিত্তি করে ভাড়ার তারতম্য হয়।
অন্যান্য খরচ: প্রতি ঘণ্টার মূল ভাড়ার পাশাপাশি আরও কিছু অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হতে পারে:
ভ্যাট (VAT): মোট ভাড়ার ওপর সাধারণত ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য হয়।
ওয়েটিং চার্জ (Waiting Charge): গন্তব্যে হেলিকপ্টার অপেক্ষমাণ থাকলে প্রতি ঘণ্টার জন্য নির্দিষ্ট চার্জ দিতে হয়।
ইনস্যুরেন্স ফি: কিছু কোম্পানি প্রতি ঘণ্টায় ইনস্যুরেন্স ফি নিয়ে থাকে।
ল্যান্ডিং চার্জ: একাধিক স্থানে ল্যান্ডিং হলে অতিরিক্ত চার্জ লাগতে পারে।
সর্বনিম্ন ভাড়া: বেশিরভাগ কোম্পানি ন্যূনতম ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার জন্য হেলিকপ্টার ভাড়া দিয়ে থাকে।
৩. বুকিং ও পেমেন্ট:
বুকিং সময়: সাধারণত ভ্রমণের অন্তত দুই দিন আগে বুকিং সম্পন্ন করা ভালো। তবে বিশেষ দিনে (যেমন: ঈদ) আরও আগে বুকিং দিতে হতে পারে।
অগ্রিম পেমেন্ট: বুকিং নিশ্চিত করার জন্য মোট ভাড়ার একটি অংশ (সাধারণত ৫০%) অগ্রিম পরিশোধ করতে হয়।
বাকি টাকা: হেলিকপ্টার উড্ডয়নের আগেই বাকি টাকা পরিশোধ করে দিতে হয়।
৪. প্রয়োজনীয় নথি ও অনুমতি:
যাত্রীর তথ্য: বুকিংয়ের সময় যাত্রীদের প্রাথমিক তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা পাসপোর্টের তথ্য প্রদান করতে হয়।
অনুমতি: এই তথ্য ব্যবহার করে পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানিকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক/CAAB) কাছ থেকে ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি নিতে হয়।
সতর্কতা: হেলিকপ্টার ভাড়া করার আগে কোম্পানির নিয়মাবলী এবং অতিরিক্ত চার্জ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নিন। আবহাওয়া ও অন্যান্য জরুরি অবস্থার কারণে ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তন হতে পারে, সেক্ষেত্রে কোম্পানির পলিসি জেনে নেওয়া দরকার।
