বাংলাদেশ থেকে রাশিয়া যাওয়ার উপায়
১. রাশিয়ার ভিসার বিভিন্ন মাধ্যম
রাশিয়া যাওয়ার প্রথম ধাপ হলো সঠিক ক্যাটাগরি নির্বাচন করা। আপনার উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে:
উচ্চশিক্ষা (Student Visa): বর্তমানে বাংলাদেশিদের জন্য রাশিয়ায় যাওয়া সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় মাধ্যম এটি। রাশিয়ার সরকার প্রতি বছর প্রচুর স্কলারশিপ দেয়। এছাড়া নিজস্ব খরচেও অনেক কম মূল্যে সেখানে ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিকেল পড়া যায়।
ভ্রমণ বা পর্যটন (Tourist Visa): আপনি যদি দেশটি ঘুরতে যেতে চান, তবে ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে ইনভাইটেশন লেটার বা ‘ভাউচার’ সংগ্রহ করে ট্যুরিস্ট ভিসার আবেদন করতে পারেন।
পেশাগত বা ব্যবসা (Business/Work Visa): রাশিয়ান কোনো কোম্পানির ইনভাইটেশন থাকলে আপনি বিজনেস ভিসায় যেতে পারেন। তবে ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের ভিসার প্রক্রিয়াটি কিছুটা জটিল এবং সময়সাপেক্ষ।
২. ইনভাইটেশন লেটার:প্রধান শর্ত
রাশিয়া যাওয়ার জন্য আপনার কাছে একটি Official Invitation Letter থাকতে হবে। এটি ছাড়া আপনি ভিসার আবেদন করতে পারবেন না।
- শিক্ষার্থীদের জন্য: রাশিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে এই লেটার ইস্যু করা হয়।
- পর্যটকদের জন্য: রাশিয়ার রেজিস্ট্রিকৃত কোনো ট্যুর অপারেটর থেকে এটি নিতে হয়।
- এই ইনভাইটেশন লেটারটি রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MVD) থেকে অনুমোদিত হতে হয়।
৩. প্রয়োজনীয় কাগজপএের পূর্ণাঈ তালিকা
আবেদনের সময় আপনাকে নিচের ডকুমেন্টগুলো গুছিয়ে জমা দিতে হবে:
মূল পাসপোর্ট: ভ্রমণের তারিখ থেকে অন্তত ৬ মাস মেয়াদ এবং দুটি ফাঁকা পৃষ্ঠা থাকতে হবে।
ভিসা অ্যাপ্লিকেশন ফরম: অনলাইনে নির্ভুলভাবে পূরণ করে প্রিন্ট করা কপি।
ছবি: ৩৫x৪৫ মিমি সাইজের ম্যাট পেপার ছবি (সাদা ব্যাকগ্রাউন্ড)।
এইচআইভি রিপোর্ট (HIV Test Report): এটি রাশিয়ার ভিসার জন্য বাধ্যতামূলক। সরকার অনুমোদিত যেকোনো ভালো প্যাথলজি থেকে এই টেস্ট করিয়ে অরিজিনাল কপি জমা দিতে হবে।
একাডেমিক পেপারস: যারা পড়তে যাবেন, তাদের সব সার্টিফিকেট ও মার্কশিট বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সত্যায়িত (Attestation) করতে হবে।
ব্যাংক স্টেটমেন্ট: আপনার বা আপনার স্পন্সরের পর্যাপ্ত আর্থিক স্বচ্ছলতার প্রমাণ।
৪. ভিসা আবেদন কেন্দ্র ও দূতাবাস
বাংলাদেশে রাশিয়ার দূতাবাস ঢাকার গুলশানে অবস্থিত।
ঠিকানা: > হাউস নং- ৯, রোড নং- ৭৯, গুলশান- ২, ঢাকা- ১২১২।
সাধারণত রবি থেকে বৃহস্পতিবার সকালের দিকে তারা আবেদন গ্রহণ করে। তবে বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারভিউয়ের প্রয়োজন হতে পারে, তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা ভালো।
৫. ভ্রমণ রুট ও যাতায়াত ব্যবস্থা
বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই। আপনাকে ট্রানজিট নিয়ে যেতে হবে:
জনপ্রিয় রুট: ঢাকা থেকে দুবাই (Emirates), দোহা (Qatar Airways), অথবা ইস্তাম্বুল (Turkish Airlines) হয়ে মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গে যাওয়া যায়।
বিমান ভাড়া: ওয়ান ওয়ে টিকিট সাধারণত ৬০,০০০ থেকে ৯০,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় (সময়ভেদে পরিবর্তনশীল)।
৬. রাশিয়ায় জীবন যাএার ব্যয় ও পরিবেশ
আবহাওয়া: রাশিয়ার শীতকাল অত্যন্ত দীর্ঘ এবং কঠিন। বিশেষ করে অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত তাপমাত্রা মাইনাস ১০ থেকে মাইনাস ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত নামতে পারে। তাই ভালো মানের শীতের কাপড় দেশ থেকেই কিনে নেওয়া বা সেখান থেকে কেনা জরুরি।
ভাষা: রাশিয়ানরা ইংরেজি খুব একটা বলে না। তাই দৈনন্দিন কাজের জন্য রাশিয়ান ভাষার মৌলিক জ্ঞান (যেমন: অভিবাদন, কেনাকাটা, রাস্তা চেনা) থাকা অত্যন্ত জরুরি।
মুদ্রা: রাশিয়ার কারেন্সি হলো ‘রুবেল’। বর্তমানে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে বাংলাদেশের ভিসা বা মাস্টার কার্ড কাজ নাও করতে পারে, তাই পর্যাপ্ত নগদ ডলার সাথে রাখা নিরাপদ।
কেন রাশিয়াকে বেছে নেবেন
রাশিয়া বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ দেশ যেখানে সংস্কৃতি এবং আধুনিকতার এক দারুণ সমন্বয় রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য রাশিয়ার ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং জীবনযাত্রার খরচ ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশ কম।
