পাসপোর্ট তৈরি করতে কত টাকা লাগে, ধরন ও ফি ?

পাসপোর্ট তৈরি করতে কত টাকা লাগে বা পাসপোর্ট বানাতে কত টাকা খরচ হয়। যে যাই বলেন না কেন পাসপোর্ট নিয়ে অনেকের অনেক ধরনের প্রশ্ন থেকে যায়। কারণ কয়েক ধরনের পাসপোর্ট রয়েছে যেগুলো সম্পর্কে অনেকে জানেনিনা। পাসপোর্ট এর কয়েকটি ধরনের রয়েছে যেমন সাধারণ পাসপোর্ট লাল পাসপোর্ট ও নীল পাসপোর্ট। এখানে এই কয়েকটি ধরনের পাসপোর্ট এর সুবিধা ও আলাদা আলাদা রয়েছে। তো যাই হোক পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে এ বিষয়ে সকল তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত নিচ থেকে দেখে নিন।

পাসপোর্ট তৈরি করতে কত টাকা লাগে ২০২৫ ধরন ও ফি

বাংলাদেশে বর্তমানে পাসপোর্ট হিসেবে দেয়া হয় e‑Passport। পাসপোর্টের খরচ (fee) নির্ধারণ হয় পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারি টাইপ (Regular / Express / Super-Express) অনুযায়ী। নিচে ২০২৫ সালের সংজ্ঞায়িত ফি গুলো দেওয়া হলো:

পাসপোর্ট টাইপ পৃষ্ঠা সংখ্যা & মেয়াদ ডেলিভারি টাইপ ফি (BDT)
e-Passport 48 পৃষ্ঠা, ৫ বছর Regular 4,025 টাকা
e-Passport 48 পৃষ্ঠা, ৫ বছর Express 6,325 টাকা
e-Passport 48 পৃষ্ঠা, ৫ বছর Super-Express 8,625 টাকা
e-Passport 48 পৃষ্ঠা, ১০ বছর Regular 5,750 টাকা
e-Passport 48 পৃষ্ঠা, ১০ বছর Express 8,050 টাকা
e-Passport 48 পৃষ্ঠা, ১০ বছর Super-Express 10,350 টাকা
e-Passport 64 পৃষ্ঠা, ৫ বছর Regular 6,325 টাকা
e-Passport 64 পৃষ্ঠা, ৫ বছর Express 8,625 টাকা
e-Passport 64 পৃষ্ঠা, ৫ বছর Super-Express 12,075 টাকা
e-Passport 64 পৃষ্ঠা, ১০ বছর Regular 8,050 টাকা
e-Passport 64 পৃষ্ঠা, ১০ বছর Express 10,350 টাকা
e-Passport 64 পৃষ্ঠা, ১০ বছর Super-Express 13,800 টাকা

অর্থাৎ, ২০২৫ সালে সাধারণত নতুন e-Passport করতে লাগবে ৪,০২৫ টাকা থেকে শুরু করে, পৃষ্ঠার সংখ্যা ও ডেলিভারি টাইপ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১৩,৮০০ টাকা পর্যন্ত।

কেন পাসপোর্টের ফি ভ্যারায়

  • পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৪৮ পৃষ্ঠা বা ৬৪ পৃষ্ঠা; পৃষ্ঠাবেশি পাসপোর্ট হলে ফি বেশি।

  • মেয়াদ: ৫ বছর নয়, যদি ১০ বছরের পাসপোর্ট চান — ফি একটু বেশি।

  • ডেলিভারি টাইপ: যদি দ্রুত পাসপোর্ট দরকার (Express / Super-Express), খরচ বাড়ে।

  • ভ্যাট ও চালান ফি: সরকার সময়ের সাথে ভ্যাট বা কমিশন ফি বাড়াতে পারে।

পাসপোর্ট করার সময় যা যা লাগবে

নিচের কাগজপত্র এবং ধাপগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে:

জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) — মূল ও ফটোকপি

  • (NID না থাকলে) জন্মনিবন্ধন সনদ

  • স্থায়ী/বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ (যেমন গ্যাস-বিল, বিদ্যুৎ-বিল)

  • অনলাইন ফরম পূরণ ও আবেদন সাবমিশন

  • পাসপোর্ট ফি জমা (অনলাইন বা ব্যাংক/চ্যালান)

  • বায়োমেট্রিক তথ্য দান (আঙুলের ছাপ, ছবি লৈ)

  • প্রযোজ্য হলে পুরনো পাসপোর্ট, NOC/GO সার্টিফিকেট ইত্যাদি

e-Passport পাসপোর্ট পেতে কত দিন লাগবে

  • Regular: সাধারণত ১৫–২১ কার্যদিবস (৩–৪ সপ্তাহ) লাগতে পারে।

  • Express / Super-Express: ৭–১০ দিন বা ১–২ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাওয়া যায়।

যদি আপনার যাত্রা জরুরি হয়, তাহলে Express বা Urgent অপশন বেছে নেওয়া যায় — খরচ একটু বেশি হলেও সময় অনেক কম লাগে।

e-Passport কেন নির্বাচন করবেন ?

পুরনো মেশিন-রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) ধীরে ধীরে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশ সরাসরি e-Passport ইস্যু করছে, যা:

  • তুলনামূলকভাবে বেশি নিরাপদ,

  • বায়োমেট্রিক ডাটা সংরক্ষণ করে,

  • আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ভ্রমণের জন্য সহজ / আধুনিক,

  • ভবিষ্যতে নতুন ধরনের ভিজা বা ইমিগ্রেশন সুবিধার জন্য উপযোগী।

e-Passport এর কিছু উপকারী টিপস

  • আবেদন করার আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ফি ও তথ্য যাচাই করুন।

  • ফি নিয়ে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে নির্ধারিত ফি + VAT হিসেব করে টাকা প্রস্তুত রাখুন।

  • আবেদন ফরম ভালো করে পূরণ করুন, ভুল তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।

  • জরুরি প্রয়োজনে Express/ Super-Express সার্ভিস নিন সময় বাঁচবে।

  • NID বা জন্মনিবন্ধন ঠিক রাখুন; প্রয়োজনে Biometrics–সহ সঠিক তথ্য দিন।

২০২৫ সালে পাসপোর্ট (e-Passport) করতে চাইলে, আপনার ফি, প্রক্রিয়া ও সময় সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা জরুরি। এই মুহূর্তে রেগুলার ৪৮-পৃষ্ঠার পাসপোর্টের জন্য ৪,০২৫ টাকা থেকে শুরু করে, সর্বোচ্চ ১৩,৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে — যা পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারি টাইপ অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *