মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় ফিচার বন্ধ করে ব্যাটারি বাঁচানো উপায়
বর্তমান সময়ে মোবাইল আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী। তবে অনেক সময় দেখা যায় ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। এর মূল কারণ হলো মোবাইলের বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় ফিচার সবসময় চালু থাকা। ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস বা ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপসের মতো ফিচারগুলো অনেক সময় আমাদের প্রয়োজন হয় না, কিন্তু এগুলো ব্যাটারির উপর চাপ সৃষ্টি করে। সঠিকভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করলে ব্যাটারির স্থায়িত্ব অনেকটা বাড়ানো সম্ভব।
ওয়াই-ফাই এবং ব্লুটুথ নিয়ন্ত্রণ
ওয়াই-ফাই ও ব্লুটুথ সবচেয়ে বেশি ব্যাটারি খরচ করে। এগুলো ব্যবহার না করলে বন্ধ রাখা উচিত।
মূল টিপস:
-
ইন্টারনেট ব্যবহার না করলে ওয়াই-ফাই বন্ধ রাখুন।
-
ব্লুটুথ কেবল প্রয়োজনের সময় চালু করুন।
-
পাবলিক জায়গায় অটো কানেক্ট অপশন বন্ধ রাখুন।
-
হটস্পট অযথা চালু রাখবেন না।
জিপিএস ও লোকেশন সার্ভিস বন্ধ করা
লোকেশন সার্ভিস বা জিপিএস সবসময় চালু থাকলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। প্রয়োজন ছাড়া এগুলো চালু রাখা ঠিক নয়।
মূল টিপস:
-
শুধুমাত্র নেভিগেশন বা লোকেশন প্রয়োজন হলে জিপিএস চালু করুন।
-
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ থেকে লোকেশন এক্সেস বন্ধ রাখুন।
-
ব্যাটারি সেভিং লোকেশন মোড ব্যবহার করুন।
-
“High Accuracy” মোড অযথা ব্যবহার করবেন না।
ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ও নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ
অ্যাপস ব্যাকগ্রাউন্ডে রান করতে থাকলে ব্যাটারি অনেক খরচ হয়। তাই ব্যাকগ্রাউন্ড ম্যানেজমেন্ট জরুরি।
মূল টিপস:
-
সেটিংস থেকে ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ ম্যানেজমেন্ট করুন।
-
যেসব অ্যাপ প্রয়োজন নেই তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা বন্ধ করুন।
-
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন।
-
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপসের অটো সিঙ্ক বন্ধ করুন।
অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় ফিচার নিয়ন্ত্রণ
ওয়াই-ফাই বা জিপিএস ছাড়াও আরও কিছু ফিচার আছে যা বন্ধ করলে ব্যাটারি সেভ হয়।
মূল টিপস:
-
অটো রিফ্রেশ বা অটো আপডেট বন্ধ করুন।
-
স্ক্রিনের ব্রাইটনেস অটো মোডে রাখুন।
-
এয়ারপ্লেন মোড ব্যবহার করুন যখন নেটওয়ার্ক প্রয়োজন নেই।
-
লাইভ ওয়ালপেপার ও অ্যানিমেশন বন্ধ রাখুন।
মোবাইলের অপ্রয়োজনীয় ফিচার সবসময় চালু থাকলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই আমাদের উচিত সচেতনভাবে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ, জিপিএস, ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ এবং অন্যান্য ফিচার ব্যবহার করা। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো মানলে মোবাইলের ব্যাটারি দীর্ঘসময় ব্যবহার করা সম্ভব এবং চার্জ দেওয়ার ঝামেলাও কমে যাবে। এখন থেকে ফিচারগুলো নিয়ন্ত্রণ করে আপনার মোবাইল ব্যাটারিকে দিন দীর্ঘস্থায়ী সাপোর্ট।
